প্রথম বাংলাদেশি কম্পিউটার প্রোগ্রামার

Comments · 2891 Views

সামাউন আলী (সিংড়া প্রতিনিধি): বংলাদেশের এবং এই উপমহাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার।

সামাউন আলী (সিংড়া প্রতিনিধি): বংলাদেশের এবং এই উপমহাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার। যার জন্য কম্পিউটার পাকিস্তানে না গিয়ে বাংলাদেশে স্থাপন করা হয়েছিল।
 
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আইসিটি এক্সপো ১৫ তথ্যপ্রযুক্তি সম্মাননা স্মারক (মরণোত্তর) পেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. হানিফুদ্দিন উদ্দিন মিয়া। বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইসিটি এক্সপো-২০১৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ গুণী ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত হানিফুদ্দিন উদ্দিন মিয়ার ছেলে শরীফ হাসান ও মোস্তফা জব্বারের হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
 
১৯২৯ সালে নাটোর জেলার সিংড়া থানার হুলহুলিয়া গ্রামে বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. হানিফুদ্দিন উদ্দিন মিয়া জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে আসা এবিএম ১৬২০ কম্পিউটারটি বাংলাদেশ পরামাণু শক্তি কমিশনে স্থাপন ও পরিচালনার পেছনে তার অনন্য অবদান রয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কম্পিউটার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি প্রথম মিডিয়ার সামনে আসেন। ২০০৭ সালে এ গুণী ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই গুণী ব্যক্তির বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার তার ফেসবুকে লেখেন, মো. হানিফ উদ্দিনের একমাত্র পুত্র শরীফ হাসান তার পিতার জীবন সম্পর্কে আমাকে একটি ছোট্ট বিবরণ পাঠিয়েছেন। আমি সেটি এখানে তুলে ধরছি। তবে আমার কাছে তার সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য আছে। সময় মতো প্রকাশ করব।
 
মো. হানিফ উদ্দিন মিয়া, নাটোর জেলার সিংড়া থানার হুলহুলিয়া গ্রামের রজব আলী তালুকদারের প্রথম সন্তান। তার জন্ম ১৯২৯ সালের পহেলা নভেম্বর। নাটোর জেলার হুলহুলিয়া গ্রামের এই কৃতী সন্তান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কম্পিউটার সার্ভিস ডিভিশনের ডাইরেক্টর পদে অধিষ্ঠিতছিলেন। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী ফরিদা বেগম ও এক প্ত্রু এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় কম্পিউটার সায়েন্স ও নিউমেরাল ম্যাথেমেটিকস থাকা সত্ত্বেও শিল্প-সাহিত্যসহ আরও নানাবিধ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের প্রতি তার ছিল অপরিসীম আগ্রহ ছিল। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও উর্দু, আরবি, হিন্দি, জার্মান ও রাশিয়ান ভাষা জানতেন। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে প্রথম শ্রেণীতে স্বর্ণপদকসহ প্রথমস্থান পান।
 
তিনি ১৯৬০ সালে ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন থিওরি অ্যান্ড অটোমেশন, চেকোস্লোভাক একাডেমি অব সায়েন্স, প্রাগ থেকে এনালগ কম্পিউটার টেকনিক এবং ডিজিটাল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে সিস্টেম এনালিসিস, নিউমেরাল ম্যাথেমেটিকস, এডভান্স কম্পিউটার প্রোগামিং, অপারেশন রিসার্চে এম. আই. টি (ইউ, এস, এ) কম্পিউটার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে আইবিএম রিসার্চ সেন্টার লন্ডন থেকে অপারেটিং সিস্টেম ও সিস্টেম প্রোগামিং এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারপর তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (ওঅঊঈ) প্রোগ্রামার এনালিস্ট হিসেবে এনালাইসিস, ডিজাইন, সফ্টওয়্যার ইমপ্লিমেন্টেশন অব কম্পিউটার এপলিকেশন প্রোগ্রাম সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মরত ছিলেন।
 
তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পার্টটাইম (গণিত) শিক্ষকতা করেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি গণিতশাস্ত্র ও কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
বাংলাদেশ কম্পিউটার বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সঙ্গে জনাব মোহাম্মদ হানিফ উদ্দিন মিয়ার নাম গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) পরমাণু শক্তি কমিশনের কেন্দ্র ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার (ওইগ১৫২০) স্থাপিত হয়। এটি ছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ডিজিটাল মেইনফ্রেম কম্পিউটার।